ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই বছরের বিচার প্রক্রিয়া শেষে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় আজ রোববার (২৮ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান দুপুর ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করবেন।রায় ঘোষণার সময় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ও ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ আদালতে উপস্থিত থাকবেন।এ প্রসঙ্গে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, ছেলে হারানোর দুই বছর পরও আবরারের মা শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এখনো চুপচাপ বসে থাকেন। সন্তান যার যায় সেই জানে এর বেদনা। এখনো প্রথম দিনের মতোই মনে ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি। এভাবে সন্তান হারানোর কষ্ট কেউ ভুলতে পারে?তিনি আরও বলেন, ছেলের একজন খুনিও যেন কোনো কারণে বের না হয়ে যায়। আমরা দৃষ্টান্তমূলক রায় দেখতে চাই। এর আগে যাদের কোল খালি হয়েছে, তারাও যেন শান্তি পায়। ছেলেকে কোলে-পিঠে বড় করে পড়াতে পাঠিয়ে আর কেউ যেন হারানোর বেদনা নিয়ে বাঁচতে বাধ্য না হন। আর কিছু চাই না।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে, বুয়েটের শেরেবাংলা হলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। বারবার প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানালেও থামেনি পাষণ্ডরা। ৬ ঘণ্টা নির্যাতনের পর মারা গেলে হলের দোতলা ও নিচতলার মাঝামাঝি সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয় আবরারের লাশ। সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়ে এ দৃশ্য। শনাক্ত করা হয় আসামিদের।ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আদালতে জানান, মাথা, বুকসহ পুরো শরীরে হাতুড়ি, ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও স্কিপিং রোপের নির্মম আঘাতের কারণেই মারা যান আবরার।আলোচিত এ মামলায় বাবাসহ ৪৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন আদালতে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ৮ জন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি- ২৫ আসামির অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছেন তারা। তাই আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছেন।অপরদিকে আসমিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আসামিদের খালাস পাবেন বলে আশা করছেন।আবরার হত্যা মামলায় ২২ আসামি কারাগারে আছেন, পলাতক এখনো ৩ জন। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।