নমস্কার বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই। আশা করি সবাই ভাল আছেন। প্রতিবারের মতো এবারও আপনার মাঝে আমরা হাজির হয়েছি সম্পূর্ণ নতুন একটি ‌‌‌টপিক নিয়ে। আমাদের আজকের টপিকটি‌ হলো কলা খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।‌‌‌তাহলে বন্ধুরা চলুন শুরূ করা যাক আমাদের আজকের টপিক নিয়ে।

পাকা কলা আমাদের দেশের একটি‌ সাধারণ ফল। বড় থেকে শুরু করে ছোট সবাই কলা খেতে পছন্দ করে । কিন্তু আমাদের অনেকেই জানেন না কলা খাওয়ার যে কত উপকারিতা সে সম্পর্কে। তাহলে আসুন জেনে নিই এখন আর কলা খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে।

কলা খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ

  • ও‌জন নিয়ন্ত্রণ করে : কলা আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন‌যে কলা‌ খেলে দেহের ওজন বেড়ে যেতে পারে । এজন্য আমাদের অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে কলা সরিয়ে ফেলেন।‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌কিন্ত কলা হলো একটি পুষ্টিকর ফল যা আমাদের দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধানে: কলা হলো রাফেজ জাতীয় একটি ফল। কলায় খাদ্য আঁশ‌ থাকে যা রাফেজ বলে পরিচিত। আর আমরা জানি রাফেজ আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। আর আমরা এটাও জানি যে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে আরও নানা রকম অসুখ আমাদের দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য যেন‌ না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এবং কলা যেহেতু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে সুতরাং আমাদের সবার ই প্রতিদিন কলা‌ খাওয়া উচিত।

  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়:আমরা জানি কলায় থাকে পটাশিয়াম। আর কলায় থাকা পটাশিয়াম আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলা আমাদের কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে ও সহায়তা করে।

  • কিডনি ভালো রাখেঃ মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো কিডনি। তা মানবদেহের ছাঁকন যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। দেহের দূষিত পদার্থ আলাদা করার এর প্রধান‌ কাজ। আমরা আগেই জেনে নিয়েছি কলায় থাকে পটাশিয়াম ।যা আমাদের কিডনি ভালো রাখতে সহায়তা করে।

  • শক্তির যোগান‌ দেয়: আমাদের দেহের পরিচালনা করার জন্য আমাদের প্রতিনিয়ত শক্তির প্রয়োজন‌হয়। এছাড়াও আমরা প্রত্যেকদিন নানারকম কাজ করে থাকি তার জন্ম আমাদের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। আর এ শক্তি আমরা বিভিন্ন খাবার থেকে পাই। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা, সেলুলোজ, ভিটামিন তা আমাদের দেহের শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। এজন্য আমাদের অবশ্যই কলা খাওয়া উচিত।

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল,ক্যালসিয়াম। এসব ভিটামিন আমাদের দেহে‌ হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলা আমাদের দেহে আ্যামিনো এসিড তৈরি করে যা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সযহায়তা করে।
  • ত্বকের যত্নে কলা: ত্বকের যত্নে কলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । কলায় থাকা ম্যাঙ্গানিজ আমাদের দেহ ত্বকের গঠনে সহায়তা করে। কলায় থাকা ম্যাঙ্গানিজ আমাদের দেহের মর্সিনতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাই ত্বকের যত্ন নেওয়ার জন্য কলার গুরুত্ব অপরিসীম। কলা আমাদের দেহে যে ম্যাঙ্গানিজের প্রয়োজন হয় তার ১৩% যোগান দিতে পারে। সুতারাং কলা খাওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
  • চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার গুরুত্ব: কলায় থাকে বিভিন্ন রকম ভিটামিন তার মধ্যে ভিটামিন এ অন্যতম। আর আমরা জানি ভিটিমিন এ জাতীয় খাবার আমাদের চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে। ভিটামিন এ জাতীয় খাবার খেলে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হয়। যেহেতু শিশুদের রাতকানা‌ রোগ বেশি হয় তাই শিশুদের ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার কলা খাওয়া উচিত।

সতর্কতা:

১. কলাতে তেমন কোনো‌‌ অপকারিতা না থাকলেও আমাদের কলা‌ খাবার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কলায় থাকে পটাশিয়াম।‌‌‌‌‌‌‌আর আপনি যদি‌ অতিরিক্ত কলা খান‌ তাহলে আপনার হার্টের সমস্যা দেখা‌ দিতে পারে ।‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ তাই পরিমিত পরিমাণে কলা খাবেন।

২.কলা খাওয়ার পরে সম্ভব হলে ব্রাশ করে নিতে এতে আপনার দাঁতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না।

৩.গর্ববতী মহিলারা কলা খাবার সময় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

ধন্যবাদ বন্ধুরা এতক্ষণ ধরে আমাদের সাথে থাকার জন্য। আমরা আজকে আলোচনা করলাম কলা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে। এবং শেষে কলা খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি আজকের টপিকটি আপনাদের ভালো লেগেছে।